শিলিগুড়ি

বছর শুরু থেকে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে সরগরম শিলিগুড়ি পুরনিগম

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়িঃ  বছর শুরু হতে না হতেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের শাসক দল বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দূর্নীতির অভিযোগ স্বরব হলো বিরোধি দল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার  বিরোধী দলনেতা রঞ্জন সরকার অভিযোগ করে বলেন, পুর নিগমের মেয়রের অভিযোগ রাজ্য সরকার তাদের কোন টাকা দিচ্ছে না। কিন্তু তাদের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্পের, বিভিন্ন খাতে টাকা খরচ করতে পারছে না পুর নিগম। যার দরুণ প্রায় উনিশ থেকে কুড়ি কোটি টাকা ফেরত চলে গিয়েছে। যার মধ্যে হাউসিং ফর অল প্রকল্পে ফলে ৬ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা, এনইউএইচএম অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে সাত কোটি টাকা এবং শৌচাগার নির্মান প্রকল্পে সাড়ে ৬ কোটি টাকা ফেরত চলে গিয়েছে। একই সাথে তার আরও অভিযোগ, গোটা শহরের সাফাই পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এদিকে বিরোধি কাউন্সিলারদের জঞ্জাল সাফাইয়ের গাড়ি, কর্মী । এরফলে শহর সাফাই হচ্ছে না আর শহরে রোগ বাড়ছে। গোটা শহরের পরিষেবা ভেঙে পরেছে কিন্তু কর্মী ছাটাই চলছে নিজেদের ইচ্ছা মত। ইতিমধ্যেই ১৬৯জন ম্যান্ডেজ কর্মীদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোককে কাজে নেওয়া হচ্ছে। আবার বিভিন্ন সময়ে তাদের আবার  কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুর নিগমে ২২০০কর্মি কাজ করছে বলে মেয়রের দাবি। কিন্তু তার কোন হিসেব নেই। পুর নিগমের কোথায় কে কি ভাবে কারা কাজ করছেন তা বারবার জানতে  চাইলেও কোন উত্তর দিচ্ছে না পুর নিগম। বাম নির্বাচিত ওয়ার্ড গুলিতে অবৈধ নির্মান ভুড়ি ভুড়ি হচ্ছে শিলিগুড়ি পুরনিগমের সমস্ত দপ্তর আজ দুর্নীতির বাসা বেধে আছে। সেইসঙ্গে মিউটেশান ফী ফ্রী করার দাবী বিরোধীদের বহুদিনের। তিনি জানান, মেয়র মিউটেশান ফী নিয়ে আলোচনার বসবেন বলেছেন বিরোধীদের সাথে কিন্তু বছর শেষ হয়ে নতুন বছর শুরু হয়ে গেলেও আলোচনায় বসে নি।  তবে এই  মিউটেশান ফী মুকুব করার দাবীতে ফের সোচ্চার হবে বিরোধীরা বলে জানান তিনি। অপরদিকে  রঞ্জন সরকারের তোলা  অভিযোগ নাস্যাৎ করে  শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র অশোক ভট্টাচার্য জানান, এতদিন পর্যন্ত বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ছিল আমরা শুধুমাত্র বেআইনিভাবে লোক নিয়োগ করেছি। আজকে তাও জানতে পারলাম যে আমরা নাকি লোককে বসিয়ে দিয়েছি কাজের থেকে। মিউটেশন ফি কমানো প্রসঙ্গে অশোক বাবুর বক্তব্য, সারা রাজ্যে মোট ১২৬টি  পৌরসভায় মিউটেশন বাবদ যে টাকা নেওয়া হয় তার তুলনায় শিলিগুড়ি পুরনিগমের মিউটেশন ফি অনেক কম।  আগে ওইসব পুরসভায় মিউটেশন ফি কমান হোক তাহলে প্রয়োজনে আমরাও তা কমিয়ে দেব। আর টাকা ফেরত চলে যাওয়া প্রসঙ্গে মেয়রের বক্তব্য টাকা চাইলে পাওয়াই যায় না। হাউজিং ফর অল প্রকল্পে পাওনা ৭০ কোটি , পেয়েছি মাত্র ছয় কোটি। তাও সেই প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল ওনারাই। আর অবৈধ বাড়ি যেই ওয়ার্ডেই নির্মান হোক না কেন তা ভেঙ্গে দেওয়া হবে বলেও জানান মেয়র অশোক ভট্টাচার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *